মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যেও চীনের অর্থনীতিতে নতুন গতি

বছরের শুরুতে চীনের কারখানা উৎপাদন এবং খুচরা বিক্রি উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির জন্য এটি একটি ইতিবাচক সংকেত বলে মনে করছেন অনেকে। গতকাল দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে শিল্পোৎপাদন ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালে বিনিয়োগে ভাটা পড়ার পর এবার বিনিয়োগ বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। খবর এফটি।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে চীনে বছরের প্রথম দুই মাসে খুচরা বিক্রি বেড়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। উল্লেখ্য, চান্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে তথ্যের বিভ্রান্তি এড়াতে বছরের প্রথম প্রতিবেদনে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তথ্য একসঙ্গে প্রকাশ করেছে চীন। তবে এ প্রবৃদ্ধি এমন একসময় এল, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে চীন জ্বালানি ও ভূরাজনৈতিক সংকটের মুখে রয়েছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরো সতর্ক করেছে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি দেশটিতে কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

ম্যাককুয়ারির চীনা অর্থনীতিবিদ ল্যারি হু বলেন, ‘চীনের এ প্রবৃদ্ধি মূলত রফতানিনির্ভর। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপে রফতানি ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া গত বছর চীনের পণ্য উদ্বৃত্ত ছিল রেকর্ড ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে এ কৌশলের কারণে প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের টানাপড়েনও তৈরি হয়েছে।

চলতি মাসে চীন ২০২৬ সালের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে অনুমোদিত নতুন পাঁচসালা পরিকল্পনায় জিডিপিতে সাধারণ মানুষের ভোগ বা কেনাকাটার অংশ বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

ল্যারি হুর ধারণা, যুদ্ধের কারণে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমতে পারে।

আরও